অতীতের কাযা নামাযগুলো কীভাবে আদায় করবেন ?

267

সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাৎ কম নয় যারা জীবনের বহু বসন্ত পার করে এসে এ বেলায় চূড়ান্ত সত্যের প্রতি সচেতন হয়েছেন। নশ্বর এ জীবন ও ধ্বংসশীল পৃথিবী আর পরকালের অনন্ত বাস্তবতার অনুভব হৃদয়ে জাগতে হায়াতের বহু সময় চলে গেছে। এখন লক্ষ্য জাহান্নাম থেকে বাঁচা, জান্নাত লাভ করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, مفتاح الجنة الصلاة “নামায বেহেশতের চাবি।” –সুনানে তিরমিযি: ২৩৮  

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,
أول ما يحاسب عليه العبد يوم القيامة الصلاة فإن صلحت صلح سائر عمله وإن فسدت فسد سائر عمله

“কেয়ামতের দিন সর্ব প্রথম বান্দার নামাযের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামায ঠিক হয়, তাহলে বাকী সকল আমল ঠিক হবে। যদি নামায মন্দ হয়, তাহলে সকল আমল মন্দ হবে।” –আবু দাউদ : ৮৬৪; তিরমিযি : ৪১৩; নাসাঈ : ৪৬৫   

তাই, অতীতের কাযা নামাযগুলো আদায় করতে প্রথমে আপনি হিসাব করবেন আনুমানিক কত ওয়াক্তের নামায আপনার কাযা হয়েছে। সঠিক হিসাব বের করতে না পারলেও প্রবল ধারণার ভিত্তিতে এমন একটা হিসাব বের করবেন, যার কাযা আদায় করলে অন্তরে এই বিশ্বাস অর্জিত হয় যে, আমার জিম্মায় আর কোন নামায কাযা নেই। এরপর ধীরে ধীরে তা আদায় করতে থাকবেন।

আর নিয়ত এভাবে করবেন (যেমন ফজরের ক্ষেত্রে) আমার জিম্মায় যে ফজরের নামাযগুলো রয়েছে তার প্রথমটা বা শেষটার কাযা আদায় করছি। অথবা (যোহরের ক্ষেত্রে) আমার জিম্মায় যোহরের যতো নামায কাযা রয়েছে, তার প্রথমটা/শেষটা আদায় করছি। এভাবে অন্যান্যগুলোর নিয়ত করবেন।

–হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃষ্ঠা ৪৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৭৬৬