খালি পায়ে হাঁটা বিষয় যা বলেছেন রাসুল (সা.)

2053

হাঁটাহাঁটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকের জানি না। প্রায় সাড়ে চৌদ্দ শ বছর আগে আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.)-ও খালি পায়ে হাঁটার জন্য আদেশ দিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পায়ে হাঁটলে রক্তচাপ কমে। পায়ের নিচের স্নায়ুগুলো বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

মানসিক প্রশান্তি আসে। এতে ঘুম অনেক ভালো হয়। মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা নিউরণগুলো বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন একদিকে যেমন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, তেমনি বুদ্ধিও বাড়তে শুরু করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের নিচে একাধিক নার্ভগুলো সক্রিয় হয়ে শরীরের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি তৈরি করে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

খালি পায়ে হাঁটা উপকারিতা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বিভিন্ন হাদিসে সে প্রসঙ্গে আলোচনা এসেছে। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মাঝেমধ্যে খালি পায়ে হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং : ৪১৬০; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং : ২৩৯৬৯)

হাদিসের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটলে বিনয় আসে, অহমিকা দূর হয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।’ কিন্তু এক পায়ে জুতা পরিধান করে অন্য পা খালি রেখে হাঁটতে নিষেধ করা হয়েছে হাদিসে।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটে। হয়তো উভয় পায়ে জুতা পরে হাঁটবে নয়তো উভয় পায়ের জুতা খুলে হাঁটবে।’ (বোখারি, হাদিস নং : ৫৮৫৫, মুসলিম, হাদিস নং : ২০৯৭)

ভাতের একটি দানা বানাতে ৭০জন ফেরেশতা লাগে, সেই নবীজি বলেছেন ভাত পরে গেলে….

ভাতের একটি দানা বানাতে- খাদ্য পড়ে গেলে তুলে খেতে হয় এটা সকলেরই জানা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য পড়ে গেলে তুলে খেতে বলেছেন। এমনকি খাদ্যে ময়লা লেগে গেলে তা পরিষ্কার করে খেতে বলেছেন।

নিজেও এর উপর আমল করা উচিত এবং অন্যকেও উৎসাহ দেওয়া উচিত। যে সুরা একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন ফেরেশতা লাগে?পড়লেই দশবার পূর্ণ কোরআন পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়!

কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা ভাত পড়ে গেলে তুলে খাওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলে, ভাত নষ্ট করতে নেই; একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন ফেরেশতা লাগে।একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন ফেরেশতা লাগে? একথার কোনো ভিত্তি নেই। একটি ভাত বা চাল তৈরি হতে কতজন ফিরিশতা লাগে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এটি অদৃশ্য জগতের বিষয়।

তবে একটি ভাতের দানা আমার পর্যন্ত আসতে যে অনেক মানুষের শ্রম আছে এবং মাটি, পানি, চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদিকে আল্লাহ তাআলা এ উদ্দেশ্যে ও এমন অনেক উদ্দেশ্যে

আমাদের খেদমতে একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন ফেরেশতা লাগে? নিয়োজিত করেছেন তা কারই বা অজানা।

সুতরাং একটি ভাতের দানা হোক বা যে কোনো খাদ্যদ্রব্য হোক, নষ্ট বা অপচয় করার কোনো অবকাশ নেই। এর জন্য আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে। একটি ভাতের দানা বানাতে সত্তরজন ফেরেশতা লাগে? খাদ্য আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিআমত। এর শুকরিয়া আদায় করা এবং অপচয় থেকে বিরত থাকা জরুরি। কখনো যেন এমন না হয় যে, আমি খাচ্ছি, কিন্তু না খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নিলাম, না শেষে শুকরিয়া আদায় করলাম।