কোরআন খতম করালে মৃত ব্যক্তি কি সেই সওয়াব পান ?

227

কোরআন খতম করালে মৃত ব্যক্তি- নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলাম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’।

জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৫২২ পর্বে মৃত ব্যক্তির জন্য কোরআন খতম করালে তিনি সওয়াব পান কি না, সে সম্পর্কে ঢাকা থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন রেজওয়ান।

প্রশ্ন : আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য অনেক সময় কোরআন খতম করাই। এতে কি মৃত ব্যক্তি সওয়াব পান নাকি যিনি কোরআন পড়লেন, শুধু উনিই সওয়াব পান?

উত্তর : আসলে সওয়াব কেউই পাবেন না। কারণ, যিনি খতম পড়াচ্ছেন তিনি ভাবছেন, তাঁদের দিয়ে টাকার বিনিময়ে আমি কোরআন পড়াচ্ছি।

তিনি মনে করছেন, এ পদ্ধতিতে কোরআন পড়ানো সওয়াবের কাজ। এই পদ্ধতি নবীর (সা.) কাছ থেকে ইবাদত বা সওয়াবের কাজ হিসেবে সাব্যস্ত না হওয়ার কারণে এটি একটি বিদাতি তরিকা।

বিদাত হওয়ার কারণে এখানে কোনো সওয়াব নেই, যতই আপনি ভালো কাজ করুন না কেন, পদ্ধতি ভুল হওয়ার কারণে এই তরিকার মধ্যে কোনো সওয়াব নেই।

সুতরাং যিনি পড়ছেন, তিনি সওয়াব পাবেন না, সেটি মৃত ব্যক্তিও পাবেন না, আর যিনি কোরআন পড়াচ্ছেন তিনিও পাবেন না।

এ ছাড়া যাঁরা কোরআন পড়ছেন, তাঁরাও সওয়াব পাবেন না, যেহেতু তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরআন পড়ছেন না, তাঁরা কোরআন পড়ছেন মূলত টাকার বিনিময়ে।

এ জন্য তাঁদের কাজটি মূলত ইবাদত হচ্ছে না, বরং ইবাদতটি তাঁরা দুনিয়ার স্বার্থে বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই তাঁদের এই ইবাদতটুকু সওয়াবের জন্য হবে না, কারণ দুনিয়ার স্বার্থে যদি কেউ ইবাদত করে থাকেন এবং সেটি যদি শুধু দুনিয়ার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই হয়ে থাকে, তাহলে এটি শিরক হয়ে যাবে।

কিন্তু এর মাধ্যমে যদি দুনিয়ার কোনো উপকার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি শিরক হবে না, তবে তাঁরা সওয়াব থেকে মাহরুম হয়ে যাবে।

এই কাজটি ইবাদতের যে বিধান রয়েছে, সেই বিধানের মধ্যে আসবে না, যেহেতু এখানে বড় ধরনের ভুল আছে।

পরকীয়ার ৬ শাস্তি, দুনিয়ায় ৩টি-আখেরাতে ৩টি

আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে পারিবারিক কলহ। আমাদের সমাজে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে পরকীয়া। মহামারী আকার ধারণ করেছে পরকীয়া। পত্রিকার পাতা খুলতেই চোখে পড়ে পরকীয়ার খবর।

পরকীয়ার ফাঁদে আটকা পড়ে আত্মহনন করছেন অগণিত নারী-পুরুষ; বলি হচ্ছেন নিরপরাধ সন্তান, স্বামী অথবা স্ত্রী। পরকীয়ার পথে বাধা হওয়ায় নিজ সন্তানকেও নির্মম ভাবে হত্যা করছে মমতাময়ী মা।

প্রতিদিনই স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী, সন্তানের হাতে পিতা-মাতা এবং পিতা-মাতার হাতে সন্তানের প্রাণ হরণের ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, ভেঙে যাচ্ছে সংসার।

কোনো না কোনোদিন এর শেষ পরিণতি হচ্ছে নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে। পরকীয়া মানবতা বিরোধী একটি অপরাধ। বিকৃত মানসিকতা।

ইসলাম একটি মানবিক ধর্ম। সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। কোনো মানবিক গর্হিত কাজকে ইসলাম অনুমোদন দেয়নি। বিবাহিত কোন নারী বা পুরুষ স্বীয় স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সঙ্গে কোনও ধরণের সম্পর্ক কিংবা বিবাহবহির্ভত‚ প্রেম, যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার মত গর্হিত কর্মকে কীভাবে ইসলাম সমর্থন করতে পারে?

এ বিকৃত কর্মের অসারতা বিবেকও ধিক্কার দেয়। নিজ স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করবে, সুস্থ বিবেকবান কোনো মানুষ এটা মেনে নিতে পারে না।

এ কর্মের কারণে সমাজ যেমন শৃঙ্খলতা হারায়, তেমনি পারিবারিক বন্ধনেও ধরে ফাটল। পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে সামাজিক সকল রীতিনীতি।

এ কাজের বিষফল মানবাজাতি কয়েক যুগ ধরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ্য করে আসছে। ইসলাম হলো নীতি ও আদর্শের ধর্ম।

ইসলামে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্ক থেকে নারী-পুরুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

নারীদের কথার আওয়াজকেও সতরের অন্তর্ভুক্ত করে অপ্রয়োজনে পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে কথা বলতে হলেও সুরা আহজাবের ৩২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।

যাতে নারীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোনো পুরুষ আকর্ষণবোধ না করেন।

শুধু নারীদেরই নয়, বরং সুরা নুরের ৩০ নম্বর আয়াতে প্রথমে আল্লাহ তায়ালা পুরুষদেরকে দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ৩১ নম্বর আয়াতে মহিলাদেরকে তাদের দৃষ্টি সংযত রাখার পাশাপাশি তাদের গোপন শোভা অনাবৃত করতে নিষেধ করা হয়েছে।

অপাত্রে সৌন্দর্য প্রদর্শনকে হারাম করে সবটুকু সৌন্দর্য স্বামীর জন্য নিবেদনে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কারণ, স্বামী তার স্ত্রীর সৌন্দর্যে মোহিত হলে সংসারের শান্তিই বাড়বে।

পক্ষান্তরে স্ত্রীর সৌন্দর্য দিয়ে অন্যকে মোহিত করার পথ অবারিত করলে তা কেবল বিপদই ডেকে আনবে।

পুরুষ-মহিলা সবাইকে চরিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না।

এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, ৩২) ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর।’ (সুরা নুর, ২)

হাদিস শরিফে ব্যভিচারের ভয়ানক শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! তোমরা ব্যভিচার পরিত্যাগ কর। কেননা এর ছয়টি শাস্তি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আখেরাতে প্রকাশ পাবে।

যে তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে হয় তা হচ্ছে, তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ুষ্কাল সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে।

আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে, সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।’ (বায়হাকি, হা নং ৫৬৪)

হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের জামিনদার হবে আমি তার বেহেশতের জামিনদার হবো।’ (বুখারিঃ ৭৬৫৮) কখনো দেখা যায় দেবরের সাথে জমে ওঠে পরকীয়া।

ইসলাম দেবরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করার লাগামকেও টেনে ধরেছে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সাবধান! তোমরা নির্জনে নারীদের কাছেও যেও না।’

এক আনসার সাহাবি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! দেবর সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কী? নবীজি (সা.) বললেন, ‘দেবর তো মৃত্যুর সমতুল্য।’ (মুসলিম, ২৪৪৫)

হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. ফতহুল বারিতে লিখেছেন, ‘এখানে মৃত্যুর সমতুল্যর অর্থ হলো হারাম।’ আর ইসলামে এসবের শাস্তি ভয়াবহ।

এসবের শাস্তি হিসেবে রজম ও দোররার নির্দেশ এসেছে হাদিসে। যাতে কোনো নারী ও পুরুষ যেন এধরনের ভয়াবহ কর্মে লিপ্ত না হয়।