লিভার ভালো থাকে কী করলে, চিকিৎসক পরামর্শ

111

বিশ্বে লিভারের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। চিকিৎসকরাও শঙ্কিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের কিছু বদভ্যাস ও ভুলের কারণেই লিভারের অসুখ ডেকে আনি আমরা। আমাদের উচিত লিভার ভালো রাখার উপায়গুলি আয়ত্তে আনা। নিজেরা একটু সাবধান হলেই লিভারের অসুখ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। লিভার ভালো রাখতে মেনে চলতে হয় কিছু নিয়মকানুন-

অনেকেই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছে মতো সাপ্লিমেন্ট বেছে নেন। লিভারের কথা তখন আমরা আর মনে রাখি না। প্রোটিন বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সময় তাই সতর্ক থাকুন। লিভার ডিটক্সিফাই করে এমন সাপ্লিমেন্ট বাছুন।

বেশকিছু পেইনকিলার লিভারের উপর সরাসরি কুপ্রভাব ফেলে। টাইলেনল বা কোলেস্টেরলের ওষুধও লিভারের ক্ষতি করে। তাই নিজেই ডাক্তার হয়ে নিজের চিকিৎসা করবেন না।

মানসিক চাপ, বা মন খারাপ ভুলতে অনেকেই খাবার বা মদের মধ্যে নিজেদের মুক্তি খুঁজে পান। এই অভ্যাস দ্রুত তাড়ান। লিভার সুস্থ রাখতে স্ট্রেসের সময় মদ বা খাবার ছোঁবেন না একেবারেই। এই সময় হজম ঠিক মতো হয় না। দিনের পর দিন এমনটা করতে করতে একদিন কিন্তু লিভার জানান দেবেই।

অনেকেই নিজের খুশি মতো ডায়েট বানিয়ে নেন। খাবারে ফ্যাট বাদ দিতে গিয়ে কৃত্রিম ভাবে যোগ করা হয় অ্যাসপার্টেম জাতীয় কৃত্রিম চিনি, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। মনে রাখবেন, শরীরে ফ্যাটেরও প্রয়োজন আছে। শুধু কতটুকু খাবেন, পরামর্শ নিন পুষ্টিবিদের থেকে। মানুন সেটুকু ডায়েট। বরং পাতে রাখুন অলিভ, ওয়ালনাট জাতীয় খাবার। এসবে হেলদি ফ্যাট থাকে।

শরীর থেকে যতটা টক্সিন বের করে দিতে পারবেন, লিভার ততটাই সুস্থ থাকবে। দিনে কয়েকবার গরম পানিতে পাতিলেবুর রস দিয়ে সেই পানি পান করুন। ডায়েটে রাখুন টকদইয়ের মতো প্রোবায়োটিক।

মদ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তা ছাড়ুন। প্রতিদিন নিয়ন্ত্রিত মদ্যপানও ক্ষতি করে লিভারের। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় মদ্যপান একেবারেই লিভারের বন্ধু নয়। লিভারে টক্সিন জমানো, শরীরকে ভিতর শুকনো করে দেওয়া এগুলোকে প্রশ্রয় দেবেন না।

ডায়েট মানতে পারুন বা না পারুন অন্তত শাকসবজি খাওয়াটা বাড়ান। টকদই রাখুন পাতে। আর বাদ দিন রেড মিট, মদ। কোনো কোনো দিন একান্তই রেড মিট খেতে হলে চেষ্টা করুন দু’ সপ্তাহে একদিন মাংস কিনতে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন। এতে লিভার টক্সিনমুক্ত হবে।