অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খেয়ে অজান্তেই করছেন নিজের যে সর্বনাশ

28

ঘরে বাইরে অসহ্য গরম। গরমে ঘরে-বাইরে হাঁসফাঁস অবস্থা। অতিরিক্ত গরমে ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার চাহিদা থাকে বেশিরভাগ মানুষের। ঘরে ফিরেই ফ্রিজ খুলে ঠাণ্ডা পানি বের করে পান করেন।

শীত ছাড়া গরমে সারা বছর ঠাণ্ডা পানি পান করে থাকেন অনেকে। তবে আপনি জানেন কি? এই ঠাণ্ডা পানি পান করার অভ্যাস ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ।

আসুন জেনে মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করলে যেসব ভয়াবহ বিপদ হতে পারে।

১. খাবার খাওয়ার পরে ঠাণ্ডা পানি খাবেন না। ঠাণ্ডা পানি শ্বাসনালীতে অতিরিক্ত পরিমাণে শ্লেষ্মার আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

২. ঠাণ্ডা পানি পান করলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে পড়ে ও স্বাভাবিক পরিপাক ক্রিয়াও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ার্কআউটের পর ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি পান করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

৩. শরীরচর্চা করার পর ঠাণ্ডা পানি একেবারেই পান করা যাবে না। কারণ ঘণ্টাখানেক শরীরচর্চা করার পর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। এ সময় ঠাণ্ডা পানি পান করলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. দন্ত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান করলে দাঁতের ভেগাস স্নায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ফলে আমাদের হৃদযন্ত্রের গতি অনেকটা কমে যেতে পারে।

তাই ঠাণ্ডা পানি পানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করুন।

সূত্র: জিনিউজ

প্লাস্টিকের কাপে চা পানে ভয়াবহ ক্ষতি: গবেষণা

চা একটি জনপ্রিয় পাণীয়। সারা দিনের কাজের ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ চা বা কফির বিকল্প নেই। তবে এই চা বা কফি পানের ক্ষেত্রে সর্তক থাকতে হবে।সবার আগে দেখতে হবে কোন কাপে চা পান করছেন। কাপটি যদি প্লাস্টিকের হয় তবে ভুলেও এই কাপে চা পান করবেন না।

রাস্তার ধারের কোনও দোকানে দাঁড়িয়ে চা-কফি খাওয়া মানেই হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্লাস্টিকের কাপে খাওয়া।এসব অভ্যাস ত্যাগ করুন।

গবেষকদের মতে, ভুলেও প্লাস্টিকের কাপে চা খাওয়া ঠিক নয়।

তাদের মতে, প্লাস্টিকের তৈরি পানির বোতল ও শিশুদের দুধের বোতল, প্লাস্টিকের পাত্রের খাবার মাইক্রোওয়েভেনে গরম করা, প্লাস্টিক মোড়কে বিক্রি হওয়া খাবার ডেকে আনছে এমন নানা রোগ।

গবেষকদের মতে, প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা বিসফেনল-এ নামের টক্সিক এ ক্ষেত্রে বড় ঘাতক। গরম খাবার বা পানীয় প্লাস্টিকের সংস্পর্শে এলে ওই রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মেশে। এটি নিয়মিত শরীরে ঢুকলে নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোনের কাজের স্বাভাবিকতা বিঘ্নিত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণু কমে যায়।

এছাড়া হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুস এবং ত্বকও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকী, স্তন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

গবেষণায় থেকে আরো জানা যায়, প্লাস্টিকের কাপ তৈরিতে যে উপাদান ব্যবহার করা হয়, সেগুলি বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে ক্লান্তি, হরমোনের ভারসাম্যতা হারানো, মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যাওয়া-সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যেমন, বোতল বা পাত্র তৈরিতে ব্যবহৃত পলিভিনাইল ক্লোরাইডকে (পিভিসি) নরম করা হয় থ্যালেট ব্যবহার করে। এই থ্যালেট আমাদের শরীরের পক্ষে বিষ।

শরীরে এই রাসায়নিক নিয়মিত ঢুকতে থাকলে শ্বাসকষ্ট, স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবিটিস, কম বুদ্ধাঙ্ক, অটিজম, ব্রেস্ট ক্যানসারের মতো অসুখ শরীরে বাসা বাঁধে। তাই দীর্ঘদিন সুস্থ শরীরে বাঁচতে এখই বর্জন করুন, এড়িয়ে চলুন প্লাস্টিকের কাপ, গ্লাস, পাত্র।