৩ বছরে কুরআন হেফজ করলো ৬ বছরের মেইসাম

17

মেইসাম ইয়াহিয়া মুহাম্মাদ। ৬ বছর বয়সেই সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বকনিষ্ঠ শিশু হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

মেইসাম ৩ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআনের ২ পারা মুখস্থ করেন। পরবর্তী ৩ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হন।

৬ বছরের মেইসাম এখনো কোনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। আর তাতেই সর্বকনিষ্ঠ হাফেজের খ্যাতি লাভ করেন মেইসাম।

মেইসামের মা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অবস্থিত কুরআন ও সুন্নাহ ইন্সটিটিউটে ৩ বছর বয়সে কুরআনিক কোর্সে তাকে ভর্তি করে দেয়া হয়। আর এখানেই সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে। এখন তার বয়স ৬ বছর।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মেয়ের যখন তিন বছর ছিল তখন তার দুই পারা মুখস্থ ছিল। মেইসাম আমিরাতে ‘শেখ জাদেহ’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এ প্রতিযোগিতায় সে সপ্তম স্থান অধিকার করে।

৬ বছরের শিশু ও সর্বকনিষ্ঠ হাফেজ মেইসাম ইয়াহিয়া মুহাম্মাদের প্রতি রইলো শুভ কামনা। আল্লাহ তাআলা তাকে কুরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

ইউরোপে মাটির নিচে ১২০০ বছরের প্রাচীন মসজিদের সন্ধান লাভ!

ইউরোপের দেশ স্পেন। এক সময় মুসলিম অধ্যুসিত দেশটির বর্তমান রাজধানী মাদ্রিদের রেকোপোলিস গ্রামে ১২০০ বছরের পুরনো মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

মাদ্রিদের প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মাটির নিচ থেকে যে স্থাপনা বেরিয়ে এসেছে তা দেখতো পুরোপুরি মসজিদের মতোই। আর এ মসজিদটিই ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

রেকোপোলিস শহরে ৬০০ শতকের দিকে নির্মিত প্রাচীন এ মসজিদটি মাটির নিচে চাপা পড়েছিল বলে জানায় প্রত্নতত্ত্ববিদরা। রেকোপোলিস শহরটি ভিসগথিক শাসকরা নির্মাণ করেন।

শহরটিতে মুসলিম শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে। ৮০০ শতকের দিকে রেকোপোলিস শহরটি পরিত্যক্ত হয়।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা খননকাজ ছাড়াই জিওম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে তাদের অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এ স্থানের মাত্র আট শতাংশ তথ্য উপাত্ত উদঘাটন করতে পেরেছেন।

হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল ম্যাকক্রোমিক জানান, ‘যত জায়গায় আমরা জরিপ করেছি, প্রায় সব জায়গার ভবন, সড়ক ও গলি অনুসন্ধান করেছি।

২০১৪ সালে এই স্থান ভ্রমণ করতে এসে তিনি তার বন্ধু স্পেনের আলচালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যঅপক ল্যারো ওলমোকে রসিকতা করে বলেন, এখানে একটি প্রাসাদ, একটি চ্যাপেল ও কিছু দোকানপাটের অবশিষ্টাংশ দেখা যায় কিন্তু বাকি শহরটি গেলো কোথায়?

পরবর্তী বছর ২০১৫ সালে তিনি পুরো শহরটির জরিপের কাজ শুরু করেন। কয়েকজন সহকর্মীসহ জিওম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে তিনি স্থানটির সম্পূর্ণ জরিপ করেন।

জরিপ চলাকালীন সময় প্রত্নতত্ত্ববিদরা লক্ষ্য করেন, ‘অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে একটি স্থাপনা ভিন্ন। যেটি পবিত্র নগরী মক্কা অভিমুখী। এছাড়াও স্থাপনাটির নকশাও প্রায় মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদের আদলে নির্মিত।

তবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, ‘মাটি না খুঁড়ে পুরোপুরি নিশ্চত হওয়া যাচ্ছে না যে, এটি মসজিদ নাকি অন্য কিছু। তবে নির্মাণ শৈলী দেখে অনুমান করা যাচ্ছে যে, মসজিদের আদলে কেবলামুখী এ স্থাপনাটি মসজিদই হতে পারে।

যদি এটি নিশ্চিত মসজিদই হয় তবে তা হবে ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ। যা হিসেবে প্রায় ১২০০ বছরেরও বেশি পুরনো হবে। এমনটিই দাবি করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।