
বরিশাল নদী বন্দরে তাসমিয়া আক্তার তানিয়াকে (১০) ফেলে রেখে পালিয়েছে তার সৎ ভাই মো. মনির।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল নদী বন্দরে কান্নাকাটি করতে দেখে তাকে উদ্ধার করে জেলা প্রশাসনের সমাজসেবা বিভাগে হস্তান্তর করে স্থানীয় সুমন হাসান।



তানিয়া পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের মাহমুদকাঠী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের প্রথম স্ত্রী’র ঘরের সন্তান। কুদ্দুস ঢাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন। তানিয়া তার সৎ মা ও ভাইয়ের সাথে গ্রামের বাড়িতে থাকে।
সে স্থানীয় ৩৭ নম্বর মাহমুদকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তানিয়া জানান, ৪ বছর আগে তার মা মা”রা যায়। পরে তার বাবা একটি আরেকটি বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্ত্রী’র (সৎ মা) আগের ঘরের একটি ছেলে (মনির) রয়েছে।



বাবা ঢাকা থাকায় প্রায়ই তার সৎ মা ও ভাই তাকে নি’র্যা’তন করে। আজ সকালে তানিয়াকে নানা বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলে সৎ ভাই সুমন তাকে সড়ক পথে বরিশাল নদী বন্দরে নিয়ে আসে। তার হাতে ৫০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চিপস কিনে খেতে বলে লঞ্চের টিকেট আনতে যায় সুমন।
দীর্ঘক্ষণেও সুমন ফিরে না আসায় শিশুটি নদী বন্দরের বিভিন্ন জনের কাছে তার ভাইয়ের খোঁজ করতে থাকে। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুরেও সৎ ভাইয়ের কোন সন্ধান না পাওয়ায় শিশুটি নদী বন্দরে কাঁদতে থাকে। সে উদ্দেশ্যহীনভাবে হাটতে হাটতে নদী বন্দর এলাকা থেকে বেরিয়ে কান্না করতে থাকে।



বিষয়টি চোখে পড়ে নদী বন্দর সংলগ্ন ছাড়া কুটির এলাকার বাসিন্দা সুমন হাসানের। সে শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা শুনে তাকে তার নিজ বাসায় নিয়ে যায়। সুমন হাসান জানান, পরিবারসহ শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শে শিশুটিকে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে যান।
যাতে শিশুটি প্রশাসনের হেফাজতে ভালো থাকতে পারেন। শিশু তানিয়া লেখাপড়া করতে চায় বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনের সমাজ সেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ জানান, সুমন হাসান শিশু মেয়েটিকে কুড়িয়ে পেয়ে তাকে খবর দেয়।



তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। এ ঘটনায় অ’ভি’যুক্ত সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে শেখ রাসেল শিশু পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্রে রাখা হবে। তার ভরণ পোষণ, লেখাপড়া এবং পুনর্বাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে স্বরূপকাঠীর আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার জানান, শিশু মেয়েটির পরিবারের সন্ধান করার জন্য ওই এলাকার দুইজন ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরিবারের সন্ধান পেলে এ ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন ইউপি চেয়ারম্যান।