কালেমা শাহাদাত পড়তে পড়তে ফিলিস্তিনি হুজুরের ইন্তেকাল !

336

উসমান জাকাত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আব্দুল লতিফ আবু খিত্বাব (৮৩) বিয়ের মজলিসে অতিথিদের উদ্দেশ্যে খোতবা দেয়ার সময় কালেমা পড়তে পড়তে ইন্তেকাল করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তার মৃ”ত্যু”র দৃশ্য ভা’ই’রা’ল হয়ে যায়।

শায়খ আব্দুল লতিফ আবু খিত্বাব ফিলিস্তিনের অধিবাসী হলেও তিনি দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত কুয়েতে বসবাস করে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে কুয়েতের একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে তিনি বিয়ের ফজিলত ও স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের অধিকার সম্পর্কিত আলোচনা করছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তার কণ্ঠ ক্ষীণ হয়ে আসে। আর সে সময় তিনি কালেমা শাহাদাত পড়তে পড়তে ইন্তেকাল করেন।

বিয়েতে আলোচনার সে অনুষ্ঠানটির ভিডিও চলছিল। মুয়াবিয়া আল-আইশ নামে একজন সে ভিডিও ইন্সটাগ্রামে শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষীণ কণ্ঠে কালেমা পড়তে পড়তে সোফায় ঢলে পড়ার দৃশ্য দেখেই পাশে বসা উপস্থিত আমন্ত্রিত মেহমানবৃন্দ তাকে ধরে ফেলেন।

শায়খ আব্দুল লতিফ আবু খিত্বাব ৫০ বছর আগে ফিলিস্তিন থেকে কুয়েতে আসেন। কুয়েতে আসার ৩ বছরের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কুয়েতের উসমান জাকাত ফাউন্ডেশন।

ফিলিস্তিনে জন্ম নেয়া শায়খ আব্দুল লতিফ আল-খিত্বাব কুয়েতের জনগণের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় আলেম হিসেবে সুপরিচিত। শায়খ আব্দুল লতিফ আল-খিত্বাবকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

ধর্ম আলাদা, বন্ধুত্ব ২৫ বছরের

বন্ধুত্ব মানে না কোন জাত-ধর্ম। এমনটাই প্রমাণ করলেন ৬২ বছরের দুই বন্ধু। প্রত্যেক দিন বিকেল হতেই পোশাক বদলে দরজার দিকে চোখ রাখেন ৬২ বছরের দৃষ্টিহীন বৃদ্ধ চমন লাল। বন্ধু মহম্মদ আনওয়ার মীরের অপেক্ষায়। দীর্ঘ ২৫ বছরে এক দিনের জন্যেও এই কাশ্মীরি পণ্ডিত চমন লালের অপেক্ষা ব্যর্থ হতে দেননি তাঁর সেই ভিন্নধর্মী বন্ধু।

চমন লালের বাড়ি দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানের জ়ায়নাপোরায়। বছর সত্তরের মীর থাকেন সেখান থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে বাবাপোরায়। রোজ ওই পথ পেরিয়ে দৃষ্টিহীন চমন লালকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে বেরোন মীর। রাস্তায় পথচলতি মানুষের সঙ্গে টুকটাক কথাবার্তা, গল্পগুজবে মেতে ওঠা। এ ভাবে পেরিয়ে যায় ঘণ্টা দু’য়েক। সফর শেষে বন্ধুকে ফের বাড়ি পৌঁছে নিজের বাড়ির পথ ধরেন মীর।

পঁচিশ বছর আগে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হারান চমন লাল। তাঁর ভাইয়েরা কাজের খোঁজে একে একে ঘর ছাড়ার পরে জ়ায়ানপোরার বাড়িতে একাই থেকে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। দৃষ্টিশক্তি নেই, ফলে চার দেওয়ালের বাইরে পা রাখার ক্ষমতাও হারিয়েছিলেন তিনি।

সেই সময়ে ভরসা হয়ে পাশে এসে দাঁড়ান তাঁর ছোটবেলার বন্ধু মীর। চমন লালের কথায়, ‘মীরের কাঁধে হাত রাখতেই আমার মধ্যে সিংহের আত্মবিশ্বাস জেগে ওঠে!’ মীর কখন আসবেন বোঝেন কী করে? ‘দেখতে পাই না ঠিকই। কিন্তু ওঁর আসার সময় হলে ঠিক বুঝতে পারি। ওঁর ঘরে ঢোকার আওয়াজ পেতেই মনটা ভাল হয়ে যায়।

স্থানীয়দের কাছে ‘দুনিয়ার অষ্টম আশ্চর্য’ নামেই পরিচিত মহম্মদ আনওয়ার মীর এবং চমন লালের এই বন্ধুত্ব। জ়ায়ানপোরায় যে এলাকায় লালের ছোট এক তলা বাড়ি সেখানে হিন্দুরা এখন সংখ্যালঘু। চমন লাল ছাড়া বাস পাঁচটি পণ্ডিত পরিবারের। তবে সকলেই মিলেমিশে থাকেন। ধর্মের ভিন্নতা সেখানে প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ঠিক যেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি, মীর এবং চমন লালের এই সৌহার্দ্যের সম্পর্কেও। শুধু শুক্রবার নমাজ পড়তে অনেকটা সময় কেটে যায় বলে বন্ধুর কাছে আসতে পারেন না মীর। তা ছাড়া ঝড়-জল-বৃষ্টি বা অসুস্থতা, এত বছর কোনও কিছুই চমন লালের বাড়ি আসা থেকে আটকাতে পারেনি মীরকে।

প্রতিবেশী মহম্মদ ইসমাইল মালিকের কথায়, ‘মীরকে বার বার বলি, আবহাওয়া বা শরীর খারাপ থাকলে বেরোতে হবে না। কিন্তু তিনি শুনলে তো! তাঁর মুখে ওই এক কথা, চমন লাল অপেক্ষা করে রয়েছে। ওঁকে নিয়ে হাঁটতে যেতে হবে…’

শুধু হাঁটতেই নয়, বিয়েবাড়ি, হাসপাতাল বা অন্য যে কোনও জায়গায় যেতে হলে চমন লালই মীরের একমাত্র ভরসা। এই বয়সেও বন্ধুর জন্য এতটা করার শক্তি পান কোথা থেকে? জবাব দিতে গিয়ে মীরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘হজরত মহম্মদই আমার আদর্শ। তিনি যখন সকলের জন্য এতটা ভাবতে, করতে পারতেন তবে আমি কেন চেষ্টা করব না?’