মায়ের মতোই কি হারিয়ে যাবে কথা নামের মেয়েটি !

105

১০ বছর আগে ম’র’ণব্যা’ধি ক্যা’ন্সা’রে মাকে হারিয়েছেন শতাক্ষী দাশগুপ্ত কথা। এখন নিজেও ম’র’তে বসেছেন সেই ক্যা’ন্সা’রেই। কথার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।

সেই স্বপ্ন পূরণে কী সংগ্রামই না করেছেন মেয়েটি। এখন আগ্রাসী ক্যা’ন্সা’র মেয়েটির স্বপ্নকে গ্রা’স করতে চলেছে। মায়ের পথ ধরে কথাও কি হারিয়ে যাবে নাকি সবার সহযোগিতায় তার স্বপ্ন পাবে পূর্ণপ্রাণ!

যশোর শহরের সিটি কলেজপাড়া এলাকার তুহিন দাশগুপ্ত’র মেয়ে শতাক্ষী দাশগুপ্ত কথা (২৩)। ১০ বছর আগে কথার মা মিতা দাশগুপ্ত ব্রে’স্ট’ক্যা’ন্সা’রে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যান।

পরিস্থিতির কারণে স্ত্রীর মৃত্যুর পর মেয়ে কথাকে বিয়ে দেন তুহিন দাশগুপ্ত। স্বামী জয়ন্ত ঘোষের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার তেঘরীহুদা গ্রামে। কথা তখন ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।

একদিকে বাবা, ছোট ভাই অন্যদিকে স্বামীর সংসার। সবকিছু সামলেও লেখাপড়া থেকে বিচ্যুত হননি কথা। এখন তিনি যশোর সরকারি সিটি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী।

কথার স্বামী জয়ন্ত ঘোষ জানান, কথার শরীরে টিউমার দেখা দিলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অ’পা’রে’শনের পর তার রিপোর্টে র’ক্তে ক্যা’ন্সা’র ধরা পড়ে।

এরপর কলকাতার এইচসিজি ইকো ক্যা’ন্সা’র সেন্টারে ডা. জয়দীপ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। আট মাস ধরে সেখানে ১২টি কেমোথেরাপি দেয়া হয় তাকে। প্রথমে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও কেমো শেষ হওয়ার পর আবারও শরীরে ক্যা’ন্সা’রের জীবাণু পাওয়া যায়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরও ছয়টি কেমোথেরাপিসহ বোনমেরো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা।

জয়ন্ত ঘোষ আরও বলেন, তারা মধ্যবিত্ত পরিবার। গ্রামের বাজারে তার ছোট কাপড়ের দোকান। সেই উপার্জনে সংসার চলে। এরই মধ্যে কথার চিকিৎসার জন্য তারা প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি তারা কলকাতা গিয়েছিলেন, ফিরেছেন গত ৪ অক্টোবর। এক মাস পর কথাকে নিয়ে আবারও যেতে বলেছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অর্থের সংস্থান নিয়ে ঘো’র অন্ধ’কা’রে তারা।

কথার বাবা তুহিন দাশগুপ্ত বলেন, আমার মেয়েকে বাঁচাতে প্রয়োজন ২০ লাখ টাকা। দেশের কোটি কোটি মানুষ ১ টাকা করে দিলেও তো অনেক। সমাজের সহৃদয় বি’ত্ত’বান মানুষদের প্রতি তিনি কথাকে বাঁচাতে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

কথার স্বামী জয়ন্ত ঘোষ বলেন, সবার সহযোগিতাই পারে কথা’র স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে। তা না হলে মায়ের পথ ধরেই হয়তো নিভে যাবে কথা’র স্বপ্ন-জীবন প্রদীপ।

যেভাবে সাহায্য পাঠাবেন : শতাক্ষী দাশগুপ্ত, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, হিসাব নং: ০১৪২০৫০০২৫০০৫, যশোর শাখা। কথা বলা যাবে ০১৭২৪১১১০৬৩ (জয়ন্ত ঘোষ) নম্বরে।