কবর খোঁড়াই কৃষক মোহাম্মদ আলীর নেশা

কৃষক মোহাম্মদ আলীর বয়স ৭৪ বছর ছুঁই ছুঁই। কিন্তু মনোবল ও পরিশ্রম তার বার্ধক্যকেও হার মানিয়েছে। যত ব্যস্ততাই থাক না কেন, মানুষ মারা যাওয়ার খবর কানে এলেই ছুটে যান তিনি।

নেমে পড়েন কবর খোঁড়ার কাজে। তৈরি করেন একজন মানুষের চিরস্থায়ী ঘর! এভাবে এক বছর, দুবছর নয় দীর্ঘ তেতাল্লিশ বছর ধরে খুঁড়ছেন অন্যের কবর।

মোহাম্মদ আলীর বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা ঝিলতলী এলাকায়। কুমিল্লা থেকে ৫৪ বছর আগে ঝিলতলীতে এসে বাড়ি করেছেন তিনি।

যখন তার বয়স ৩০ বছর তখন থেকে তিনি কবর খুঁড়েন। খবর পেলেই সরঞ্জাম নিয়ে চলে যান কবর খুঁড়তে।

আবার মানুষ মারা যাওয়ার খবর তার কানে এলেও শত কাজ রেখে ছুটে যান। তার এলাকা ও আশপাশের প্রায় ১৬টি কবরস্থানে ৪৩ বছর ধরে প্রায় পাঁচ শতাধিক কবর খুঁড়েছেন তিনি।

মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রথমে মরদেহ দেখে কবরের পরিমাপ করি। তারপর কবর তৈরির কাজ শুরু করি। পুর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হওয়ার পর শুয়ে দেখি ঠিক হয়েছে কি-না।

কবর খোঁড়ার জন্য নিজের টাকায় দুটি খন্তা, দুটি কোদাল, দুটি তেরপাল, বালতি, বেলচা, দা, করাত কিনেছি। সৈয়দপুর, ঝিলতলী, মরা কয়লা, শুভলছড়ি, গুজা ও পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কবর খুঁড়ি। এজন্য কোনো পারিশ্রমিক নিই না।

তিনি আরও বলেন, এখনো আমি কঠোর পরিশ্রম করি। হয়তো এ কাজ করার কারণে আল্লাহর রহমতে আমার শরীরে কোনো রোগ বালাই নেই। যতদিন বেঁচে থাকবো এ কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

এ বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জাগো নিউজকে বলেন, কবর খোঁড়া একটি মহৎ কাজ। এ কাজ সবাই করতে পারে না।

মানুষ মারা গেলে নিজের শত কাজ রেখে কবর খুঁড়তে ছুটে যান মো. আলী। তিনি ৪৩ বছর ধরে অনেক কবর খুঁড়েছেন। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি।

তিনি আরও বলেন, গত বছর আমার ইউনিয়নে কবর খোঁড়ার কাজ করা ১০ জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়েছি এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিটি মসজিদে কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম দিয়েছি।

আমি মনে করি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অনেককে সম্মানিত করা হয়। কিন্তু মানুষ মারা গেলে যারা ছুটে যায় তাদের কেউ খবর রাখে না। সবার উচিত আলীর মতো মানুষদের সম্মান করা।