বন্ধুর প্রেমিকাকে তুলে আনতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে বন্ধুর প্রেমিকার, আর সেই খবর পেয়ে বন্ধুর পরামর্শে পাঁচজন এক সঙ্গে রাতের অন্ধকারে মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন তুলে আনার জন্য।

কিন্তু মেয়ের পক্ষের লোকজনের কাছে মারধরের শিকারে গুরুতর জখম হয়ে অবশেষে প্রাণ দিতে হলো রাসেল (২২) নামে এক যুবকের। নিহত রাসেলের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে।

বুধবার (১৫ জুন ) সকালে আহত  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  মারা যায় রাসেল। এ ঘটনায় আহত হয়ে প্রেমিক মঞ্জরুল জোয়াদ্দার (২২) ও তার ওপর বন্ধু রাজু আহমেদ(২৩) মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত রাসেল মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার তিন নম্বর শ্রীকোল ইউনিয়নের বরিশাট গ্রামের দলিল শেখের ছেলে।

ঘটনাস্থল ছোনগাছা গ্রামের মেয়ের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, বুধবার মেয়েটির বিয়ে হওয়ার কথা।

এই খবর শুনে গতকাল সন্ধ্যায় পার্শ্ববতী বরিশাট গ্রামের মঞ্জুরুল, রাজু, রাসেলসহ একদল যুবক মেয়েটির বাড়িতে এসে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

এ সময় বাড়ির লোকদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে তাদের ধরে ফেলে। এ সময় মারধরের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়।

পরে তাদের স্বজনরা আহতদের এসে নিয়ে যান। বুধবার সকালে রাজু নামে এক যুবকের মৃত্যুর খবর শুনেছেন তারা।

এ বিষয়ে নিহত রাসেলের বন্ধু প্রেমিক মঞ্জুরুল জোয়াদ্দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী ছোনগাছা গ্রামের একটি মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) মেয়েটি তার এক বন্ধুর মাধ্যমে খবর দেয় তার অভিভাবক তাকে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দিচ্ছে। এ খবর জানার পরে আমরা মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে পাঁচ বন্ধু দুই মোটর সাইকেল যোগে মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছিলাম তার সাথে দেখা করার জন্য।

এ সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই মেয়ের পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের মারপিট করে। এতে আমিসহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হই।

পরে কোনো মতে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে আসি। প্রথমে আমাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাসেলের অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৫ জুন) সকালে তার মৃত্যু ঘটে।


 
রাসেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার চাচাতো ভাই ওমর শেখ বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। তিনি বলেন, আমার ভাই রাসেলের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছিল।
 
ঘটনার বিষয়ে মেয়েটির বাবা দিদার মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মঞ্জরুল আমার মেয়েকে ইভটিজিং করে আসছিল। স্কুলে যাওয়ার সময় সে প্রায়ই আমার মেয়ের গতিরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এজন্য বেশ কিছুদিন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল।

আমরা গরিব মানুষ তাই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলাম। বুধবার মেয়ের বিয়ে হবার কথা। কিন্তু এই খবর  জানতে পেরে মঞ্জুরুল সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে জোর পূর্বক টেনে হেঁচড়ে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। এ সময় রাতের বেলায় কে বা কারা তাদের মেরেছে সেটা আমরা বলতে পারবো না।
 
জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ওসি লিটন সরকার বলেন, প্রেমঘটিত বিষয়ে মারামারির কারণে একজনের মৃত্যুর খবর আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। এ বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।