পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই ছাত্রলীগ নেতার লাশ উদ্ধার

ভোলার চরফ্যাশন থেকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ছাত্রলীগ নেতা আল আফছার তামিমের (২৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  

সোমবার (২৭ জুন) সকালে স্থানীয়রা নদীতে লাশ দেখতে পেলে পুলিশকে খবর দেয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পদ্মা নদীর শরীয়তপুরের জাজিরায় পয়েন্ট এর সিধার চর এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত তামিম ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনসারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একে এম মজির উদ্দিনের ছেলে।

তামিম চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অর্নাস ৪র্থ বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুপুর দেড়টার দিকে পদ্মা নদীর সিডার চর এলাকায় একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়।

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং গত ২৫ জুন পদ্মায় ট্রলার উল্টে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের লোকজন আসেন। তার দুলাভাই লাশটি নিখোঁজ তামিমের বলে শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। 

তামিমের দুলাভাই মো.ইউনুস বলেন, আমরা জাজিরা থানা থেকে তামিমের লাশ বুঝে পেয়েছি। তামিমের লাশের গোসলের ব্যবস্থা চলছে। গোসল শেষে আমরা তামিমকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা দেব। আগামীকাল সকাল ৮টায় জানাজার নামাজ শেষ দাফন করা হবে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের লাশ ভোলায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে তামিম এর লাশ পাওয়ার খবরে তার গ্রামের বাড়ি চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কলেজপাড়ায় শোকের মাতম চলছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা ও পরিবারের আহাজারি কোনোভাবেই থামছে না। 

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পদ্মা নদীর কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে মাওয়া ঘাটে পৌঁছানোর পাঁচ মিনিট আগে প্রবল স্রোতে ট্রলার উল্টে যায়। এসময় ২৩ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় ট্রলারটি। তখন ২১ জন যাত্রী পদ্মায় ভাসতে থাকে।

যাত্রীদের মধ্যে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৫ নেতাকর্মী ছিলেন। তখন ভাসমান অবস্থায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার এর একটি স্পিডবোটে ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ থাকেন তামিম।