বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে টিকিট বিক্রিতে নয়ছয়

বরিশাল নদীবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশের টিকিট বিক্রিতে চলছে নয়ছয়। যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা টিকিট অক্ষত রেখে আবার যাত্রীদের কাছেই বিক্রি করা হচ্ছে।

এভাবে দিনের পর দিন একই টিকিট ঘুরেফিরে বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব নিজেদের পকেট ভরছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এমন অভিনব কৌশলের সত্যতা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুন) সংস্থাটির সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহার নেতৃত্বে একটি টিম বরিশাল নদীবন্দরে অভিযান চালায়।

টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হাসান, মো. মোহাইমিনুল ইসলাম ও উপ-সহকারী পরিচালক সুশান্ত রায় ও জাকির হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে অভিযান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযানে লঞ্চঘাটের ১ ও ২ নম্বর কাউন্টারে আগে বিক্রি করা ৮৫০টি টিকিট পাওয়া যায়।

একইসঙ্গে কাউন্টারের ক্যাশে ওই দিনে বিক্রি করা টিকিটের হিসাবের চেয়ে অতিরিক্ত সাত হাজার টাকা বেশি পাওয়া যায়। ক্যাশে টাকা বেশি কেন? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের কাগজপত্র চেক করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। অভিযানে নথিপত্র ও বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, এখানে বড় ধরনের ঘাপলা রয়েছে।

বরিশাল লঞ্চঘাট একটি ব্যস্ততম বন্দর এলাকা। আমাদের হিসাবে সেখানে প্রতিদিন লাখ টাকার ওপরে টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু কাগজপত্র বলছে লঞ্চঘাটে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়। বিষয়টি নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নদীবন্দরে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের লঞ্চ টার্মিনালে প্রবেশের জন্য বিক্রি করা টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান না করে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আত্মসাৎ করে—

এমন অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই টিম বরিশাল নদীবন্দরের আওতাধীন লঞ্চঘাটে প্রবেশের ১ ও ২নং কাউন্টার থেকে আগে বিক্রি করা প্রায় ৮৫০টি টার্মিনাল টিকিট তালাবদ্ধ ড্রয়ার থেকে উদ্ধার করা হয়। যা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুনরায় বিক্রির উদ্দেশে সংরক্ষিত রেখেছিলেন।

দুদক জানায়, অভিযান পরিচালনাকালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় টার্মিনালে বিক্রি করা টিকিটের টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা কাউন্টারের ড্রয়ারে দেখতে পায় এনফোর্সমেন্ট টিম।

এছাড়া টিকিট বিক্রি রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৪৫৫ নং বইয়ের টিকিট আগে বিক্রি করা হলেও পুনরায় ওই বইয়ের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের সময় বন্দরে যে পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয়েছে সে পরিমাণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ হয়েছে কি না তা পর্যালোচনার জন্য টিকিট বিক্রি রেজিস্টার, মুড়ি বহি, ক্যাশ বই, জমা ভাউচার, ব্যাংক হিসাব বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।