পারিশা একাই ধরলেন দুই ছিনতাইকারীকে, তবুও মেলেনি মোবাইল ফোন

যানজটে আটকে থাকা একটি বাসে জানালার পাশে বসে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ছিনতাইকারী টান দিয়ে মোবাইল নিয়ে যায় এক শিক্ষার্থীর। সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীও ছিনতাইকারীর পিছু নেন।

এসময় পাশের সিটে তার আরেক সহপাঠীও ছিলেন তিনিও তার সঙ্গে পিছু ছুটেন।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই)  একটি ভিডিও দেখে জানা যায় রাজধানীর কাওরান বাজার প্রধান সড়কে তানজিল পরিবহণে এ ঘটনা ঘটে।

যানবাহনের ফাঁকে ফাঁকে ছিনতাইকারীকে তাড়া করে কিছুদূর যাওয়ার পর হারিয়ে যায় কালো টি-শার্ট পরা সেই ছিনতাইকারী।

পরে কাওরান বাজারের প্রধান সড়কের পাশের ইত্তেফাক গলিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। নিজের পছন্দের শাওমি ব্র্যান্ডের পোকো এম-৩ সেটটি ছিনতাই হওয়ার পর সে কষ্টে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

সহপাঠী বন্ধুকে নিয়ে তখন ওই গলিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক তখনই আরেক ছিনতাইকারী মোবাইল ছিনতাই করে ওই গলি দিয়ে যাচ্ছিল। আর তার পেছন পেছন দৌড়াচ্ছিলেন মোবাইলের মালিক।

ওই শিক্ষার্থী তখন দেখছিলেন তার সামনে দিয়ে ছিনতাইকারী পালিয়ে যাচ্ছিল। কিছু ভেবে উঠার আগেই ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরেন। তারপর শুরু করেন বেধড়ক পিটুনি।

পেটাতে পেটাতে রক্তাক্ত করে ফেলেন। সঙ্গে কান্নাকাটি আর চিৎকার করে বলতে থাকেন তার ছিনতাই হওয়া ফোনটা বের করে দেওয়ার জন্য।

ততক্ষণে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে যায়। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ভিডিও ও ছবি তুলছিলেন। বাকিরা অবাক তাকিয়ে দেখছিলেন সেই শিক্ষার্থীর সাহসিকতা। কিন্তু শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীকে পেটাতে থাকেন।

তার পকেট তল্লাশি করে দেখছিলেন তার মোবাইলটা আছে কিনা। নিজের মোবাইল না পেলেও ছিনতাইকারীর একটি ফোন পান।

সেই ফোন ঘেঁটে কল করেন ছিনতাইকারীর আরেক সহপাঠীকে। কৌশলে তাকে দিয়ে ফোন করিয়ে তার সহপাঠীকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। শুরু হয় তাকেও পেঠানো। কিন্তু কারো কাছেই নিজের মোবাইলটি পাননি শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পুলিশ এসে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে। পুলিশ তাদের কাছে ফোন না পেয়ে ছিনতাইকারী দু’জনসহ শিক্ষার্থী আর তার সহপাঠীকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যেতে চান।

প্রথমে শিক্ষার্থীরা যেতে চান না। পরে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের পরামর্শে ওই শিক্ষার্থী তেজগাঁও থানায় গিয়ে মামলা করবেন। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম পারিশা আক্তার (২৫)।

তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সদরঘাট এলাকার একটি ছাত্রীবাসে থাকেন। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে।

পারিশা বলেন, সকাল ৯টার দিকে থিসিসের কাজে আমি আমার বন্ধু শাহরিয়ার আলমকে নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলাম। ফেরার পথে কাওরান বাজারে ঘটনাটি ঘটে।

আমি ভাবতেও পারিনি আমার সঙ্গে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাবে। আমার মোবাইল হারিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারণ মোবাইল আরেকটা কিনতে পারবো কিন্তু মোবাইলের ভেতরে আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল। যেভাবে হউক আমার মোবাইলটা পেতে হবে।

তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সারোয়ার আলম খান বলেন, আমরা মামলা নিবো। আটক ছিনতাইকারীদের আদালতে পাঠানো হবে। আর শিক্ষার্থীর মোবাইল উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।