যুবতীর প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে এসেছে ইতালির যুবক

প্রেম মানে না কোনো ধর্ম, বর্ণ বা দেশ। সেই প্রেমের টানে এবার ইউরোপের দেশ ইতালি থেকে বাংলাদেশে এসে ঠাকুরগাঁওয়ের বালীয়াডাঙ্গীর এক তরুণীকে বিয়ে করলেন আলেসান্দ্রে চিয়ারোমিন্তে (৩৯) নামে এক যুবক। 

কনে বাংলাদেশি তরুণী হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালীয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খোকোপাড়া গ্রামের দিনমজুর মারকুস দাসের মেয়ে রত্না রানী দাস (১৯)। 

সোমবার (২৫ জুলাই) রাতেই মারকুস দাসের বাড়িতে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

প্রতিবেশী জতিন চন্দ্র বলেন, এটি আমার দেখা ব্যতিক্রমী বিয়ে। ইতালির ছেলে এসে আমাদের গ্রামে বিয়ে করেছে। পাত্রী দেশের আর পাত্র বিদেশের। অনেক আনন্দ ও উল্লাস করেছি বিয়েতে।

এখন মেয়েকে নাকি জামাই ইতালিতে নিয়ে যাবেন। জামাই অনেক ভদ্র। আমরা অনেক খুশি। 

পাত্রকে দেখতে আসা প্রতিবেশী চম্পা খাতুন বলেন, এর আগে বিয়ে দেখতাম নিজ দেশের ছেলে ও মেয়েকে। এবারে ব্যতিক্রমী একটা বিয়ে দেখলাম। দেশের বাইরের পাত্র আর আমাদের এলাকার পাত্রী। দেখে অনেক ভালো লাগলো। 

কনে রত্না রানীর বাবা মারকুস দাস বলেন, আমার এক ভাই ইতালি থাকেন। তার মাধ্যমেই জামাইয়ের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচিয় হয়।

পরিচয় হওয়ার পর মোবাইলের মাধ্যমে তাদের কথা হয়। তারপরে জামাই সোমবার আমাদের বাড়িতে আসেন। সকল আইন মেনে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছি। 

রত্না রানীর মা জানকি দাস বলেন, আমার দেবর তার পরিবার নিয়ে ইতালি থাকে। সেখান থেকে আমাদের প্রস্তাব দেয়। পরে প্রস্তাবের মাধ্যমে আমার মেয়েকে জামাই পছন্দ করে।

পরে আমরা ধুমধাম করে এবং আয়োজন করে বিয়ে সম্পন্ন করেছি। আমার জামাই আমার মেয়েকে ইতালি নিয়ে যাবে, আমরাও যাব। 

রত্না রানী বলেন, আমার চাচা ইতালিতে থাকেন। সেখানে পরিবার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। পরে আমার চাচা আমাদের বাড়িতে আমার জামাইয়ের বিষয়ে প্রস্তাব দেন।

পরে মোবাইলের মাধ্যমে আমরা ইমোতে যোগাযোগ করি। আমাদের সম্পর্ক হয়। আমরা প্রায় সাত মাস ধরে মোবাইলে কথা বলি। আমার চাচা আমাকে কিছু ভাষা শিখিয়ে দিয়েছিলেন।

সেগুলো দিয়ে তার সাথে আমি কথা বলি। তারপরে গতকাল আমাদের বিয়ে হয়। জামাই হিসেবে তিনি অনেক ভালো মনের মানুষ। তিনি সবকিছু মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেন।

তার সাথে আমার শেখা ভাষাতেই কথা বলছি। ভাষাগুলো শিখতে আরো সময় লাগবে। আমি চেষ্টা করছি। 

আলেসান্দ্রে চিয়ারোমিন্তে বলেন, আমার বউয়ের চাচার সাথে আমার দেশে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করি। সেখানে দেখেছি বউয়ের চাচা উনারা অনেক সুন্দর করে দাম্পত্য জীবন পরিচালনা করেন।

সেখান থেকেই আমি অনুপ্রাণিত হয়ে জোসেফ চাচাকে বলি বাংলাদেশে বিয়ে করার কথা। তিনি আমার বউয়ের বিষয়ে আমাকে প্রস্তাব দেন।

আমার অনেক পছন্দ হয়। আগে মোবাইলের মাধ্যমে কথা বলেছি। গতকাল এসে এখানে আয়োজন করে বিয়ে করেছি। 

ইতালির এই যুবক আরো বলেন, আমার বউ ও তার পরিবার অনেক ভালো। তারা অনেক আন্তরিক ও ভালো মনের মানুষ। আমি আমার বউকে আমার দেশে নিয়ে যাব।

পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমার বউকে আমি নিয়ে যাব। 

চাড়োল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির চাচা জোসেফ ও ইতালির ছেলেটি একসাথে ইতালিতে একই অফিসে কাজ করতেন।

মূলত জোসেফ ও তার বউয়ের পারিবারিক দাম্পত্য জীবন দেখে বাঙালি মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই যুবক। ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।