মিরসরাইয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ হস্তান্তর

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত মাইক্রোবাসের ১১ জনের মধ্যে নয় জনের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের থানার সামনে থেকে স্বজনদের লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে থানা এলাকা।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাশগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের রেলওয়ে পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন।

তিনি বলেন, মিরসরাইয়ে নিহত ১১ জনের লাশ রাতে রেলওয়ে থানায় আনা হয়। এরপর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

আর আসিফ ও শান্ত শীল নামে দুজনের স্বজনরা এখনো আসেননি। তারা এলে তাদেরকেও লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। 

যাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে তারা হলেন- সাজ্জাত হোসেন, সমিরুল ইসলাম হাসান, গোলাম মোস্তফা নিরু, মোস্তফা মাসুদ রাকিব, জিয়াউল হক সজিব, ওয়াহিদুল আলম, মোছাহেব আহমেদ, জিয়াউল হক সজীব, রেদোয়ান চৌধুরী। এছাড়া শান্ত শীল, আসিফ উদ্দীনের লাশ হস্তান্তর করা হবে। 

ট্রেন দুর্ঘটনায় সেই গেটম্যান আটক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড়তাকিয়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহতের ঘটনায় গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বড়তাকিয়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

গেটম্যানকে আটক করার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে না থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে দুর্ঘটনার পরপরই বিভাগীয় পার্সোনেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আনছার আলীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুপুর ২টার দিকে মীরসরাইয়ে মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ধাক্কায় পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, খৈয়াছড়া ঝরনা নামের পর্যটন স্পট থেকে গোসল করে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী মহানগর প্রভাতী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায় মাইক্রোবাসটি। এতে ঘটনাস্থলে ১১ জন মারা যান। হতাহতদের বাড়ি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকায় বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনসার আলী জানান, ট্রেনটি বড়তাকিয়া ক্রস করার সময় লাইনে উঠে যায় মাইক্রোবাসটি। এ সময় ইঞ্জিনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি কিছু দূর চলে যায়। লেবেল ক্রসিংয়ের বাঁশ ঠেলে মাইক্রোবাসটি লাইনে ওঠে যায়।