ট্রাকচাপায় বাবা নিহত, পাঁচ সন্তান নিয়ে দিশেহারা মা

ভ্যানচালক আজিজুল ভ্যান চালানোর পাশাপাশি বাড়ির পাশের পতিত জমিতে সবজি চাষ করতেন। সেই সবজি ভ্যানে করে স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

কিন্তু এটিই যে তার বাড়ি থেকে শেষ বের হওয়া ছিল তা কে জানতো? মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। রেখে যান স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে।

আজিজুলের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বামীর এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আজিজুলের স্ত্রী মহবিনা বেগম। ছোট পাঁচ সন্তানকে নিয়ে কী করবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না।

সন্তানদের পড়াশোনার কথা ভেবে কপালে চিন্তার ভাঁজ তার কপালে। অন্য দিকে সংসার চালানোর কোনো উপায় না থাকায় মানবেতর জীবন পার করছেন পরিবারটি।

জানা যায়, শনিবার (১৬ জুলাই) সকালে ভ্যান চালক আজিজুল ভ্যানে করে সবজি নিয়ে উপজেলার টেংগনমারী বাজারের দিকে যাচ্ছিল। একই দিকে কিসামত বটতলা শান্তিনগর বাজার এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক যাওয়ার সময় ওই পিছন থেকে ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে ভ্যানচালক আজিজুল ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় ট্রাক রেখে চালক পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ।

নিহত ভ্যান চালক আজিজুল হক নীলফামারীর জলঢাকার আরাজি কাঠালি বালাপাড়া এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে। আজিজুলের বসতভিটা ছাড়া আর তেমন কোনো কিছুই নেই।

পরিবারের এক মাত্র উপার্জনের ব্যক্তি ছিলেন আজিজুল। শুধু ২টি টিনের ঘর ও একটি রান্না ঘরেই শেষ সম্বল। আজিজুল বেঁচে থাকাকালীন অভাবের কারণে বন্ধ হয়েছিল বড় ছেলে রুবেলের পড়াশোনা।

বর্তমানে বড় মেয়ে রাজিয়া পড়ে ১০ম শ্রেণিতে। মেজ দুই মেয়ে পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে। এক দিকে সংসার চালানোর চিন্তা অন্য দিকে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে হতাশায় পড়েছেন আজিজুলের স্ত্রী মহবিনা বেগম।

নিহত আজিজুলের স্ত্রী মহবিনা বেগম বলেন, ‘আমি এখন কি করব, এই যাদু গুলাক কায় দেখবে, বাচ্ছা গুলা লালালুট হয়া বেরাইবে। কায় দেখবে, পড়া শুনা কেমন করি করবে!  ট্রাক দুর্ঘটনায় স্বামী চলি গেল।

এই পাঁচটা সন্তানকে নিয়ে আমি কি করব, কিভাবে সংসার চালাব? আমার যাদু গুলার পড়াশুনার কি হবে। আমি বিত্তবান ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামনা করছি।’

দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মহবিনার বড় মেয়ে রাজিয়া বলে, ‘বাবা ছিল লেখাপড়ার খরচ যেভাবে হোক দিত পড়াশোনা করতাম, এখনতো বাবা নাই, কিভাবে পড়াশোনা করব? খাব কি? তার কোনো উপায় নাই।’

প্রতিবেশী আমেনা বেগম বলেন, ‘এই পরিবারের একজন ছিল কামাই করার মানুষ আর খাইত ৭ জন। এখন সেই মানুষটাও তো নাই। বাড়িটা ছাড়া আর কোন কিছু নাই এখন ওরা যে কিভাবে খাবে-চলবে আল্লাহ জানে। পরিবারটার জন্য এখন সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।’

পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রকিবুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার সাধ্য মতো এই পরিবারটির পাশে থাকার চেষ্টা করতেছি। বর্তমানে সরকারের কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। সুযোগ সুবিধা আসা মাত্র আমি বিধবা ভাতা হোক বা ভিজিডি হোক, যে কোনো সুবিধা আমি তাদের দিয়ে পরিবারটির পাশে থাকব।

জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক জানান, বিষয়টি অত্যন্ত করুণ। সমাজ সেবার পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করা হবে।