বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেলেন হতদরিদ্র দর্জির ছেলে

নীলফামারীর সৈয়দপুর ওয়াবদা খলিফাপাড়া এলাকার হতদরিদ্র দর্জি তসলিম উদ্দীনের ছেলে আবুল বাশার বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার এই সাফল্যে তার বাবা-মা, পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকসহ এলাকাবাসী খুব খুশি।

আবুল বাশার জেলার সৈয়দপুর ওয়াবদা খলিফাপাড়া এলাকার হতদরিদ্র দর্জি তসলি ম উদ্দীনের ছেলে।

বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। বাবার সেলাইয়ের কাজের সল্প আয় দিয়েই চলে তার মা বাবা বোন সহ ৪ জনের পরিবার।

তবে অভাবের সংসারেও বাশারের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়ে হবেন ইঞ্জিনিয়ার। অভাব অনটন আর সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বুয়েটে পড়ার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ/লেভেল-১ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক কোর্সের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সে ফলাফলের অপেক্ষামান তালিকায় ছিলেন বাশার।

আর সেই তালিকার মধ্য থেকে নেভাল আর্কিটেক্ট অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

এর আগে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১ হাজার ৭০২তম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ষষ্ঠতম স্থান অর্জন করেন বাশার। তিনি সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন বাশার।

পড়াশুনায় ভালো হওয়ায় তার বাবা শত অভাবেও কাজ করতে দেননি। জীবন সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে আবুল বাশার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেছি।

মা-বাবাকে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে দেখেছি। সকাল হলে বাবা চলে যেতেন কাজে, আর মা সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাভাব ও শত কষ্টের মাঝেও নিজেকে প্রস্তুত করি।

ভাবতাম একদিন বুয়েট থেকে প্রকোশলী হিসেবে বের হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব। তখন মা-বাবার দুঃখ-কষ্ট দূর হবে।

আল্লাহর মেহেরবানীতে বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়ে ওই স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়েছি। আমার সাফল্যের পেছনে  মা-বাবার পাশাপাশি নানা পর্যায়ের শিক্ষকেরা আমাকে সহযোগিতা করছেন।‘

আবুল বাশারের মা বিউটি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কাগজ কেটে বাড়ি বানাত। উড়োজাহাজ দেখলেই দৌড়ে ঘর থেকে বের হতো। বলত, বড় হয়ে আমি ইঞ্জিনিয়ার হব।

ওর ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় জীবনে যত দুঃখ-কষ্ট ছিল সব ভুলে গেছি।’

সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘আবুল বাশারের এ সাফল্যে আমরা শিক্ষকরা সবাই অনেক খুশি ও গর্বিত। ও শুধু পড়ালেখায় নয়, সব দিক দিয়েই খুব ভালো ছেলে। তার অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে এ সফলতা এনে দিয়েছে।’