শেষ জীবনে আফসোস প্রবীর মিত্রের, কি করলাম!

চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা প্রবীর মিত্র। একসময় চলচ্চিত্রাঙ্গন দাঁপিয়ে বেড়ালেও এখন আর তাকে চলচ্চিত্রের পর্দায় দেখা যায় না।

বয়সজনিত কারণে দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে আছেন। প্রবীর মিত্রের শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। জানা গেছে, প্রবীন এই অভিনেতা কানে কম শুনতে পান। হাঁটুর ব্যথার জন্য ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না।

প্রবীর মিত্র এখন ভারতের দিল্লিতে তার বোনের বাড়িতে তিন সন্তানের সঙ্গে আছেন। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন প্রবীর মিত্রের পুত্রবধূ সোনিয়া ইয়াসমিন।

পুত্রবধূ সোনিয়া ইয়াসমিন বলেন, হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা আছে। শীত এলে উনার একটু বেশি সমস্যা হয়, উনি শীতে কাবু হয়ে যান। এ ছাড়া এখন উনি একটু কানেও কম শোনেন, থেমে থেমে জোরে কথা বলতে হয়। তবে উনার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো।

৭৯ বছর বয়সী প্রবীর মিত্র দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন। হাঁটুর ব্যথায় ঘর থেকে বের হতে পারেন না এই অভিনেতা। ২০২০ সালের জুলাই মাসে তিনি করোনায়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন।

পর্দায় নায়ক চরিত্রে সাফল্যের পর চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও আলো ছড়িয়েছেন প্রবীর মিত্র। এরপর চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৪০০-এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করা প্রবীর মিত্র অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই বড় ছেলের সঙ্গে বসবাস করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে প্রয়াত এইচ আকবরের ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান।

পরে ওই পরিচালকের জলছবি সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’-এর মতো সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় প্রবীর মিত্রকে দেখা গেছে।

এ ছাড়া ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ চলচ্চিত্রে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সীমার’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘অঙ্গার’, ‘পুত্রবধূ’, ‘নয়নের আলো’, ‘চাষীর মেয়ে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘আবদার’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ইত্যাদি।