পাকিস্তানে বন্যায় মৃত্যু হাজারের বেশি, আরও বৈশ্বিক সহায়তা আবেদন

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এ কারণে আরও আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে পাকিস্তান সরকার।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সালমান সুফির বরাত দিয়ে রবিবার (২৮ আগস্ট) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশ এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করেছে। তবে বর্তমান পিরিস্থিতি মোকাবিলায় তা যথেষ্ট নয় বলে জানান সালমান সুফি।

তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার সাধ্যমতো জনগণকে সাহায্য করছে। গত জুন মাস থেকে এই বন্যায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে বহু নদীর পানি তীর ছাপিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এর ফলে সৃষ্ট শক্তিশালী আকস্মিক বন্যায় নতুন করে হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে জুনায়েদ খান নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক বলেছেন, ‘আমরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে যে বাড়িটি তৈরি করেছি তা আমাদের চোখের সামনে ডুবতে শুরু করেছে। আমরা রাস্তার পাশে বসে আমাদের স্বপ্নের বাড়িটি ডুবতে দেখলাম।’

দক্ষিণ-পূর্বের সিন্ধ প্রদেশও চলমান এই বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রদেশটিতে হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সালমান সুফি বলেন, জরুরিভাবে পাকিস্তানের আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যায় নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু যখনই আমরা সেসব সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিলাম, ঠিক তখনই ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যার এই দুর্যোগ আঘাত হানল।’

তিনি আরও বলেন, অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিবিসি বলছে, সিন্ধ প্রদেশজুড়ে যেদিকেই যাওয়া হচ্ছে সেখানেই দেখা মিলছে বাস্তুচ্যুত লোকদের। বন্যার কারণে এই প্রদেশটি ঠিক কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সেখানকার লোকেরা এটিকে তাদের জীবনের সবচেয়ে খারাপ বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করছেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, জুন থেকে এ পর্যন্ত বন্যায় ৩৩ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। চলতি মৌসুমে পাকিস্তানে বন্যায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা ২০১০-১১ সালের বন্যার সঙ্গে তুলনীয়। এক দশক আগের সেই বন্যাকে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ বলে উল্লেখ করা হয়।

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা অবশ্য ধ্বংসাত্মক এই বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।