হাতি-ঘোড়া নিয়ে বিএনপির র‌্যালিতে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন করল বিএনপি।

৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে নেতাকর্মীরা নানা রঙ-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে একই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া কারো কারো কণ্ঠে।

নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়া এই কর্মসূচিতে হাতি-ঘোড়া নিয়েও এসেছিলেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আর নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগমের কারণে সবার মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

নেতাদের কণ্ঠেও ছিলো বাড়তি উম্মাদনা। র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তাই নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’

bnp-2আর র‌্যালি উদ্বোধন করার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এ মিছিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি দেশবাসীকে জানিয়ে দেবে বিএনপি এখন দেশের সবচেয়ে বড় দল।’

বেলা তিনটার দিকে র‌্যালি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সোয়া চারটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেন নেতাকর্মীরা। র‌্যালির অগ্রভাগে ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হওয়া র‌্যালিটি নাইটেঙ্গল মোড়, বিজয়নগর সড়ক, পল্টনের মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

bnp-3বড় আকৃতির জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকার পাশাপাশি রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন, জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা র‌্যালিতে অংশ নেয়। র‌্যালিতে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতিও ছিলো।

র‌্যালির আগে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

এই দলকে শক্তিশালী করেছেন, বিকশিত করেছেন, জনগণের মধ্যে একে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি হচ্ছেন আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি এখনো এই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন এবং এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের মিথ্যা মামলায় অন্তরীণ অবস্থায় আছেন, অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় আছেন।’

bnp-4র‌্যালির কারণে আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে অফিস শেষ করে বের হওয়া মানুষদের ভোগান্তিতে পোহাতে হয়।

র‌্যালিতে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। নেতাকর্মীরাও এসব দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

র‌্যালিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু,

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমিনুল হকসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

bnp-5

এদিকে বিএনপির র‌্যালিকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিলো পুলিশ। আশপাশের এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা ছাড়াও আজ সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি। র‌্যালিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নারায়ণগঞ্জে যুবদলের এক কর্মী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।