প্রতিশোধ নিতে মিয়ানমারের বিমান হামলা!

উত্তর রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত মংডুতে বিমান হামলা শুরু করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

শুক্রবার (০২ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,

বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আরাকান আর্মি (এএ) মংডুর একটি পুলিশ ফাঁড়ি দখল করে সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যা করে। আর এর জবাব দিতেই হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার জান্তা।

ইরাবতীর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার (৩১ আগস্ট) মংডুর ওই পুলিশ ফাঁড়িটি দখল করে আরাকান আর্মি। এসময় পুলিশের ১৯ কর্মকর্তাকে হত্যার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর জবাবেই সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার জান্তা। 


স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে ইরাবতী জানায়, বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে তিনটি হামলা চালায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাসিন্দা জানান, এদিন সকালে দুটি যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয়। আর বিকেলে দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে গোলা ছোড়া হয়। 

এ ঘটনার পর মিয়ানমার জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশটির সেনারা ‘শক্তি প্রয়োগ’ এবং ‘আর্টিলারি’ ব্যবহার করে মংডুর পুলিশ ফাঁড়িটি ফের দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে, মিয়ানমার বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া গোলা বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়ও পড়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী বিজিবি বিওপি সীমান্ত পিলার ৪০-৪১ এর মাঝামাঝি এলাকায় মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে ৮-১০টি গোলা ছোড়া হয়।  


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার আকাশে উড়তে দেখা যায়।

এ সময় হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান থেকে থেমে থেমে গোলা ছোড়া হয়। এতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ফায়ার করা কয়েকটি গোলা জিরো পয়েন্টে এসে পড়ে।  


বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) তারিকুল ইসলাম বলেন, সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২টি যুদ্ধবিমান ও ২টি ফাইটিং হেলিকপ্টার দেখা যায়।

এসময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। 


ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ আগস্ট থেকে সীমান্ত এলাকায় হামলা জোরদার করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সীমান্ত এলাকার অন্তত ৬টি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। এরপর থেকেই অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর জবাবেই বিমান ও হেলকিপ্টার নিয়ে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ শেল নিক্ষেপ করছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। আতঙ্কে মংডু থেকে পালিয়ে পাশের বুথিডাংয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। 

অব্যাহত হামলা-নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছে ‍মিয়ানমার সেনারা।