এদিকে মর্টার মারলে ওদিকেও যাতে মর্টার যায়: ফখরুল

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মিয়ানমারের মর্টার শেল ছোড়া প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারের তো জনগণের শক্তি নেই। সে টিকে আছে অন্যদের শক্তিতে।

যে কারণে তার নিজের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে তার যে ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন সেই ভূমিকা সে নিতে পারে না। 

তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্র নীতি ছাড়া সে টিকেও থাকবে না। চীন ও ভারতকে কনভিন্সড করে এদিকে মর্টার মারলে ওদিকেও যাতে মর্টার যায়, সে ব্যবস্থা অবশ্যই তাকে করতে হবে।

রোববার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে গত ১৪ দিনে সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের দমনপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন।

সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এই সরকারকে অবশ্যই সরে যেতে হবে এবং সরে গিয়ে নিরপেক্ষ একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।

একটা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবি আদায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি চলতেই থাকবে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে কর্মসূচি আছে। এরপর আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

বৃহত্তর প্লাটফর্ম গঠন করে আন্দোলনকে বেগবান করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনা এখনো চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে এটাকে চূড়ান্ত করে আমরা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারব।

৯ দিনে সরকারের দমনচিত্র এবং দলীয় কর্মসূচি পালনের সময়ে ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশি হামলার ঘটনায় হতাহত ও গ্রেপ্তারের তালিকা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ২২ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশ বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, চট্টগ্রাম,

নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি স্থানে মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় চার হাজার ৮১ জনের অধিক নেতাকর্মীকে।

এসব মামলায় অজ্ঞাত আসামি প্রায় ২০ হাজার। সারাদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ২০/২৫টি স্থানে এবং বাড়িঘর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে ৫০টি স্থানে। সারাদেশে নিহত হয়েছেন তিনজন, আহত হয়েছেন দুই হাজারের অধিক নেতাকর্মী। গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২০০ জনের অধিক।

মির্জা ফখরুল বলেন, কর্তৃত্ববাদী গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষদের হত্যা, গ্রেপ্তারের যে অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে তা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। যারা নিহত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্ত করে হত্যাকারী ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানাচ্ছি। হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার যদি অশুভ তৎপরতা বন্ধ না করে তাহলে জনগণের ঐক্যের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা ক্রমান্বয়ে গণবিস্ফোরণে পরিণত হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো ছলের অভাব নেই। ওরা প্রতিমুহূর্তে ছল তৈরি করে এবং ছল তৈরি করে আন্দোলনকে বিপথে পরিচালিত করে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে। সন্ত্রাসে তাদের জন্ম, সন্ত্রাস দিয়ে তারা রাজনীতি করে এবং সন্ত্রাস দিয়ে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করে।

নারায়ণগঞ্জে মামলা দায়ের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, শাওন হত্যায় মামলা দায়ের করেছি। আমরা প্রত্যেক খুন-জখম-হত্যার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। একদিকে রাজপথে আন্দোলন করছি। এটাকে আরও বেগবান করব।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে বিএনপির মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।