‘গাড়ি আস্তে চালাইতে কইছি, চালক শোনে নাই’

‘তারাগঞ্জ পার হয়া আসি গাড়ি ঢোলাঢুলি শুরু করি দেইল। এ্যাপাকে একবার যায় ওপাকে একবার যায়। হামরা চিল্লাচিল্লি করি কইসি, ওস্তাদ এমন করি গাড়ি চালান ক্যা?

এই কথা কইতে কইতে গাড়ি ঠ্যাস করি শব্দ হইল। পরে আর কিছু কইতে পারি না। সকালে দেখি আমি হাসপাতালে।’

সোমবার সকালে নিউজবাংলাকে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের তারাগঞ্জে রোববার মধ্যরাতে দুটি বাসের সংঘর্ষে আহতদের একজন তারাজুল ইসলাম। দুর্ঘটনাকবলিত ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহন বাসের যাত্রী ছিলেন তিনি। ছিলেন গাড়ির পেছনের সিটে।

তার চিকিৎসা চলছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সার্জারি বিভাগে। হাসপাতালে তিনি বলেন, ‘মনে হয় ড্রাইবার মাল কাইছে। নইলে গাড়ি অমন করে চলবে কেন?’

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে তারাগঞ্জ উপজেলার ইকোরচালী হাজীপাড়া এলাকার খারুভাজ সেতুর কাছে রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাণীশংকৈল থেকে ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা জোয়ানা পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ ঘটে।

এতে রাত ৩টা পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা গেছেন আরও তিনজন। হাসপাতালে পরে মারা যান আরও একজন।

নিহতদের মধ্যে সাতজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন তারাগঞ্জের হাঁড়িয়ালকুঠি এলাকার আনোয়ার হোসেন, সৈয়দপুরের কুণ্ডল এলাকার মহসিন হোসেন, পল্লি চিকিৎসক আনিছুর রহমান, ধনঞ্জয় রায় ও জীবন রহমান, সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা ও গাইবান্ধার সাদেক আলী।

‘গাড়ি আস্তে চালাইতে কইছি, চালক শোনে নাই’

দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। এর মধ্যে ইসলাম পরিবহন বাসে ছিলেন যাত্রী আব্দুর রহিমও।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হইতেছিল খুব, কিছু বোঝা যাইতেছিল না, গাড়ি খালি ঢুলতেছিল। আমরা গাড়ি আস্তে চালাতে কইছি, চালক শোনে নাই। আস্তে চালাইলে এমন বড় দুর্ঘটনা ঘটত না।’

একই কথা বলেন, জরিপ হোসেনও। তিনি ইসলাম পরিবহনে উঠেছেন রাণীশংকৈল থেকে।

একই হাসপাতালে ভর্তি নাসির উদ্দিন। তিনি ছিলেন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া জোয়ানা পরিবহনের বাসে।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আমার মা হাসিনা বেগম আর মামা বেল্লাল হোসেন বগুড়ার শেরপুর থেকে উঠছি। রাত হইসে, একটু ঘুম ধরছিল। এ সময় শুধু একটা শব্দ হইল, পরে আর কিছু কইতে পারি না।

‘আমি মাথায় আঘাত পাইছি। আমার মার দুই পা ভাঙছে, মাথায় আঘাত পাইছে। মামারও একই অবস্থা।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক শরীফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।’