সেই চেয়ারম্যানের শ্যালকের বাড়ি থেকে নবজাতকসহ কিশোরী উদ্ধার

চেয়ারম্যানের ধ’র্ষ’ণে সন্তান প্রসবের ঘটনায় ভিকটিম কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পিবিআই।

দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেনের শ্যালকের বাড়ি থেকে বুধবার ভোরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পরে ওই কিশোরীকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সাখায়াওয়াত তাকে একাধিকবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধ’র্ষ’ণ করেছেন। ধ’র্ষ’ণে’র পর অন্তঃসত্ত্বা হলে কাজের লোকের সঙ্গে বিয়ে দেন চেয়ারম্যান। প্রসবের পর আসামির শ্যালক সন্তানসহ তাকে অপহরণ করে।

গাজীপুর আদালতে নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ভিকটিমের জবানবন্দির পর তার বাবা তার জিম্মায় মেয়েকে দেয়ার আবেদন করলেও আইনি আনুষ্ঠানিকতার জন্য ভিকটিমকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশ বলছে, ধ’র্ষ’ণ ও বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ভিকটিম তাদের হেফাজতে থাকবেন।

এদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত সাখাওয়াত চেয়ারম্যান কাপাসিয়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

জানা গেছে, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন প্রধানের বাসার কাজের মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে চেয়ারম্যান কাজের ছেলের সঙ্গে তাকে বিয়ে দেন।

এরপর ভিকটিমকে ভাড়া বাসায় সরিয়ে নেন। ১৬ আগস্ট ভিকটিম একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। বাচ্চা কোলে মেয়েটি গণমাধ্যমকে বলেন- সন্তানটি সাখাওয়াত চেয়ারম্যানের। এর পর ২৯ আগস্ট বাচ্চাসহ মেয়ে ও মেয়ের মাকেও অপহরণ করেন সাখাওয়াত চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও শ্যালক।

এ বিষয়ে ভিকটিমের বাবা গাজীপুর নারী শিশু আদালতে মামলা করেন। আদালত ২৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

বুধবার ভোরে আসামির শ্বশুরবাড়ি থেকে পিবিআই বাচ্চাসহ ভিকটিমকে উদ্ধার করে। সঙ্গে বাচ্চার নানিকেও উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।

গাজীপুরের পিবিআই পুলিশ সুপার মাকসুদের রহমান বলেন, ধ’র্ষ’ণ ও সন্তান প্রসবের ঘটনায় ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য তাদের হেফাজতে থাকবেন। পরে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।