প্রেমের বিয়ের ৩০ বছর পর স্বামীর হাতে তালাকনামা তুলে দিলেন হালিমা!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৩০ বছর আগে প্রেম করে হালিমা বেগমকে বিয়ে করেন চাঁন মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বিয়ের আগে তারা দুই বছর প্রেম ভালোবাসা করেছেন।

ওই সময় অভিভাবকরা তাদের প্রেম ভালোবাসা মেনে নিতে চাননি। নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েও অভিভাবকরা তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারেননি।

সম্প্রতি চাঁন মিয়া বেকার হওয়ায় নানা টেনশনে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে হালিমা বেগম তাকে একাধিকবার বুঝিয়েও মাদক থেকে সরাতে পারেননি। যতবার বুঝাতে গিয়েছেন ততবারই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

অবশেষে নির্যাতন ও মাদক সেবনের অভিযোগ এনে চাঁন মিয়াকে তালাক দিয়ে তার হাতে তালাকনামা তুলে দেন হালিমা বেগম।

রোববার রাতে ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

চাঁন মিয়া জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার বয়রাডাংগা গ্রামের মৃত ছামছুল শেখের ছেলে এবং একই থানার তালুকদারপাড়া গ্রামের গেন্দা মিয়ার মেয়ে হালিমা বেগম।

হালিমা বেগম জানান, সেই ৩০ বছর আগে আমার কাছে চাঁন মিয়াকে সিনেমার নায়কদের মতোই লেগেছে। তাই তার ভালোবাসায় পাগল হওয়ায় বাবা-মা অনেক শাসন বারণ করেছেন।

কিন্তু কিছুতেই আমাকে চাঁন মিয়ার কাছ থেকে দূরে সরাতে পারেননি। সেই স্মৃতি মনে হলে এখনো চোখের জলে বুক ভেসে যায়। সেই মানুষটি এখন কোনো কর্ম করে না; গাঁজার নেশা করে ঘুরে বেড়ায়। কথায় কথায় মারধর করে।

তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার সাথে আর সংসার করব না। এজন্য তালাক দিয়েছি। আমাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় কন্যাকে বিয়ে দিয়েছি, ছোট কন্যা বিবাহ উপযুক্ত।

চাঁন মিয়া বলেন, হালিমার অভিযোগ সত্য না। আমি তাকে এখনো প্রথম দেখার মতোই ভালোবাসি। সে হয়তো অভিমান করে তালাক দিয়েছে। আমি তার তালাক মানি না।

বিয়ের পর থেকে আমরা ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় বসবাস করছি। এ পর্যন্ত আমি কামাই রোজগার করে তাদের লালন পালন করেছি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জে বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে ৮ হাজার ১৮৩টি। এর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ১৪২ জনের।

সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৮টির বেশি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। যৌতুকের জন্য নির্যাতন, মাদকাসক্তি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, দ্বিতীয় বিয়ে, পারিবারিক কলহ, অভাব-অনটন, বনিবনা না হওয়াসহ নানা কারণে এ বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে।