ছেলের বিয়ের বয়স নিয়ে আসিফের স্ট্যাটাস ভাইরাল

চলতি অক্টোবরের ৩ তারিখে বড় ছেলে শাফকাত আসিফ রণ’র বিয়ে দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। জমকালো এক আয়োজনে মহাধুমধামে হয়ে সেই বিয়ে। 

বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন রুনা লায়লা, কনকচাঁপা, কুমার বিশ্বজিৎ, কবির বকুল, শওকত আলী ইমন, কণা, সালমাদের মতো জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অনেক সেলিব্রেটিরা।

বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু ছবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্টও করেন আসিফ। যেখান ছেলে রণ ও পুত্রবধূ ঈশিতার ছবি রয়েছে।

ছবিগুলো পোস্টের পর মন্ত্যব্যের তলায় অনেকের রণ’র বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।  

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা পাঠ চুকিয়ে এবার সেই প্রসঙ্গ টেনে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিলেন আসিফ। সন্তানের বিয়ের বয়স বিষয়ে অভিভাবকদেরকে ‘ফ্রি টিপস’ দিলেন বাংলা গানের যুবরাজ।

যেখানে ২৬ বছর বয়সের আগেই সন্তানকে বিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আসিফের সেই স্ট্যাটাস তার সম্প্রতি দেওয়া আর সবগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে অনেকদূর।

পোস্টের পর ১১ ঘণ্টার মধ্যে তাতে ১ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি রি-অ্যাক্ট জমা পড়েছে। সাড়ে  ৬ হাজারের কাছাকাছি শেয়ার হয়েছে। ১৩ হাজারের বেশি মন্তব্য জমা পড়েছে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। বোঝাই যাচ্ছে আসিফের এই পোস্ট বেশ সাড়া ফেলেছে নেটমাধ্যমে।

আসিফ তার ভাইরাল সেই ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি বিয়ে করেছি উনিশ বছর তিন মাস বয়সে। বলা যায়, বেগমের ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সেই প্রেশার কুকার গিলে ফেলা।

জীবনের বাঁকে বাঁকে ঠোক্কর খেয়েও আমাদের সংসার টিকে আছে এবং কলেবর বাড়ছেই। আলহামদুলিল্লাহ। আমার দুই ছেলের বয়স বাইশ হওয়া মাত্রই তাদের পিছনে আঠার মতো লেগে আছি বিয়ে করানোর জন্য। তাই রণ’র সম্মতি পাওয়া মাত্রই আর কালক্ষেপণ করিনি। ছাব্বিশ বছরে আমাদের রণ এখন গর্বিত বিবাহিত পুরুষ।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘জীবনকে খুব কাছে থেকে নিরীক্ষণ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। পড়াশোনা শেষ, তারপর চাকরি পেলে ছেলের বিয়ে দেয়া মার্কা ফর্মূলায় আমি নেই।

গ্র্যাজুয়েশনের পরপরই বিয়ে দেয়াটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়। এর একটু আগেও হতে পারে, তবে কোনোভাবেই ছাব্বিশের পরে যাওয়া উচিত না।

নতুন মুখ এলে এমনিতেই পরিবারে আনন্দ আসে, একঘেয়েমী কেটে যায়। ছেলে প্রতিষ্ঠিত হলে নিজের জায়গায় চলে যাবে, তার আগেই জীবনের যতটুকু নির্যাস নেয়া যায় সেটাই আনন্দ।

দায়িত্বশীলতা আসে সন্তানের চিন্তাজগতে। পরিবার থেকে পাওয়া সহযোগিতাগুলো সে মনে রাখে, নিজের ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের আগলে রাখার চেষ্টা করে।’

‘ও প্রিয়া’খ্যাত গায়কের ভাষ্য, ‘সন্তানকে পারফেক্ট সময়ে বিয়ে করানো অভিভাবকদের দায়িত্ব। অজুহাত বাদ দিয়ে সাহস করে এগিয়ে এলে উপায়ও বেরিয়ে আসবে।

যে ঝুঁকি নেয় না তার সুখী হওয়ারও কোনো কারণ থাকা উচিত নয়। জীবনটা উপভোগের, ক্যালকুলেটর নয়। সংসারে বউ আসলে সময়গুলো রঙ্গীন হয়, মানিয়ে নেয়ার জন্য সময় পাওয়া যায়।

আমি বাল্যবিয়ে করলেও রণ’র বিয়ে পারফেক্ট সময়েই হয়েছে, আর দু’টো বছর আগে হলে আরও ভালো হতো। সন্তানদের ঘরমুখী এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হিসেবে তৈরী করতে সঠিক সময়ে বিয়ে করানো আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের বিয়ে নিয়ে এখনো ইতস্ততবোধে আছেন যারা, তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। আমি একজন সফল সংসারী মানুষ, সেই এঙ্গেল থেকে ফ্রি টিপস দিলাম। স্মার্ট গার্ডিয়ান হউন, সঠিক কাজটি করুন।’