ইন্দুরকানিতে মামাকে পানিতে চুবিয়ে হ’ত্যা’র অভিযোগে ভাগনে আটক

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলায় আবদুল খালেক হাওলাদার (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে ডোবার পানিতে চুবিয়ে হ’ত্যা’র অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ রোববার সকালে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত আবদুল খালেকের সৎবোনের ছেলে মজিরুল আকনকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত আবদুল খালেক হাওলাদার উপজেলার ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। আটক মজিরুল আকন উপজেলার ভাবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের ছেলে কামাল হোসেন বলেন, ‘১০ বছর আগে মজিরুল আকন আমার বাবাকে মারধর করেছিলেন।

এরপর আমার বাবা মজিরুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। আমার বাবাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পানিতে চুবিয়ে হ’ত্যা করেছেন তিনি। আমি তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।’

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবদুল খালেক হাওলাদার ইন্দুরকানি উপজেলা সদরে বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। আজ সকালে তিনি হাঁটতে বের হন।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে মজিরুল আকন সড়ক থেকে মামা আবদুল খালেক হাওলাদারকে তুলে ইজিবাইকে করে ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যান।

এরপর মজিরুল আকন তাঁদের বাড়ির পাশের একটি ডোবার পানিতে আবদুল খালেককে চুবিয়ে হ’ত্যা করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর নিহত আবদুল খালেকের ছেলে কামাল হোসেন খুঁজতে গিয়ে ডোবার মধ্যে তাঁর বাবাকে পান।

এরপর তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দক্ষিণ ইন্দুরকানি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মজিরুল আকনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন

ইন্দুরকানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ননী গোপাল রায় বলেন, আবদুল খালেক হাওলাদারকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জোছনা বেগম বলেন, ‘সকাল নয়টার দিকে মজিরুল আকন পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে কী যেন করছিলেন। এ সময় আমি তাঁকে (মজিরুল) জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “মোবাইল পানিতে পড়ে গেছে, সেটা খুঁজতেছি।”’

ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক রোববার বেলা একটায় বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হ’ত্যা’র সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ভাগনে মজিরুল আকনকে আটক করা হয়েছে।