ছেলেকে হাত-পা বেঁধে পু’ড়ি’য়ে মারার অভিযোগে মা আটক !

নারায়ণগঞ্জে রেদোয়ান (১৪) নামে এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে পু’ড়ি’য়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তার মা লিপি বেগমের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মাকে আটক করে পুলিশ।

পরে একইদিন রাতে মৃতের বাবা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ লিপি বেগমকে আটক করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেদোয়ান স্থানীয় একটি প্রিন্টের কারখানায় কাজ করতো। কাজে অনিয়মিত হওয়ায় ৬ থেক ৭ মাস আগে কর্মহীন হয়ে পরে। অভাবের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার মা লিপি বেগম।

এই নিয়ে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি হয়। অভিযুক্তের স্বামী আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় লিপি তার দুই সন্তান নিয়ে নগরীর বেপারীপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ঘটনার দিন গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে রেদোয়ানদের বাসা থেকে চিৎকার ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয়রা যেয়ে তাকে দ’গ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তার বাবা আনোয়ারকে খবর দেয়া হয়।

তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সেখানে সাতদিন চিকিৎসাধীন থেকে মারা যায় সে।

আনোয়ার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ছেলে যদি নিজে থেকে তার শরীরে আ’গু’ন দেয় তবে তার হাত-পা বাঁধা থাকার কথা না। আমার ছেলেকে পু’ড়ি’য়ে মারা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। 

এদিকে হত্যায় অভিযুক্ত লিপি বেগমের স্বজনদের দাবি, লিপি ও তার স্বামী আনোয়ারের বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত।

লিপি তার স্বামীর নি’র্যা’ত’ন সইতে না পেরে স্বামীকে ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকতেন। রেদোয়ানকে কাজ না করার জন্য বকাঝকা করায় সে নিজেই তার শরীরে আ’গু’ন দিয়েছে। তাকে হ’ত্যা করা হয়নি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেদোয়ান তার জীবদ্দশায় চিকিৎসকের কাছে আত্মহত্যার চেষ্টার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, নি’হ’তে’র বাবা তার ছেলেকে হ’ত্যা করা হয়েছে এই মর্মে একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ছেলের মাকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার মায়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তার মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার যোগসাজশ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।